১৮৯৮ সালের কথা। নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের রসায়নববিদ স্যার উইলিয়াম র‍্যামসে।
এর আগে তিনি আর্গন গ্যাস আবিষ্কার করেছেন, বিশ্লিষ্ট করছেন হিলিয়াম গ্যাস। তাতে বিজ্ঞানী মহলে বেশ পরিচিত তিনি। তিনি দেখতে পারেন মৌলের একটি গ্রুপের ধর্ম প্রায় একই রকম। তো তিনি নিষ্ক্রয় গ্যাসের গ্রুপে আরো কিছু গ্যাস অনাবিষ্কৃত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করলেন। তাই তিনি তার এক সহকর্মীর সাথে আর্গন গ্যাস নিয়ে আরো পরীক্ষা - নিরিক্ষা করতে লাগলেন।

how was discovered krypton gas?
প্রথমেই বাতাস হতে বাতাস হতে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস আলাদা করা হল। গ্যাসটিকে তরল করে বাষ্পীভূত করে তারা দেখতে চাইলেন তাতে আর কোন মৌল পাওয়া যায় কি না। তাদের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল। প্রায় ১৫ লিটার আর্গন গ্যাস হয়ে তারা অন্য আরেকটি গ্যাস পেলেন। পারমাণবিক বর্ণালি বা স্প্রেকট্রোমিটার দিয়ে গ্যাসের উপর পরিক্ষা চালান হল। তাতে কমলা আর সবুজ রেখা পাওয়া গেল, যা সে।সময়ের জানা থাকা অন্য গ্যাসের সাথে মিলে না। তাতে র‍্যামসে ও তার সহকর্মী মরিস ট্রাভার্স বুঝলেন তারা নতুন একটা গ্যাস আবিষ্কার করছেন। । এবার নাম দেওয়া পালা।


এক হিসেবে গ্যাসটির ভিতর আরেকটি গ্যাস লুকিয়ে ছিল। তাই নামকরণের সময় সে কথা মনে রেখে নতুন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নাম দেওয়া হল

ক্রিপ্টন।

গ্রিক শব্দ ক্রিপ্টস অর্থ লুকানো। বর্ণহীন স্বাদহীন, গন্ধ হীন ও রাসায়নিক ভাবে নিষ্ক্রিয় এ গ্যাসের নাম পারমানবিক সংখ্যা ৩৬, অবস্থান ১৮ নাম্বার গ্রুপের ৪ নাম্বার পর্যায়ে। এর প্রতীক Kr

বায়ুমণ্ডল এ খুবই সামান্য পরিমাণ ক্রিপ্টন গ্যাস পাওয়া যায়। ফ্লুরোসেন্ট বাতি, আলোকসজ্জা ও ফটোগ্রাফি এর ফ্লাস লাইট, লেজার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার আছে।


আর্গন, ক্রিপ্টন ছাড়াও র‍্যামসে নিওন ও জেনন গ্যাস আবিষ্কার করেন। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের এই গ্রুপ আবিষ্কারের জন্য ১৯০৪ নোবেল পুরস্কার পান র‍্যামসে।