শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, তাকে বলা হয় বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রশিল্পের জনক। তার হাতে আকা চিত্রের দ্বারা ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এর করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য তিনি বিখ্যাত। বাংলার সেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ২১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় তিন হাজারের বেশি চিত্রকর্ম একেছেন।১৯১৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর তিনি ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। আর ১৯৭৬ সালের ২৮শে মে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। অসামান্য প্রতিভাত স্বীকৃতি স্বরূপ তার নাম জড়িয়ে গেছে মহাকাশেও। অনেকের হয়ত জানা নেই যে তার নামে সুর্যের নিকটতম গ্রহের একটি ক্রাটার এর নাম দেওয়া হয়েছে আবেদিন। ২০০৮ সালে পাঠানো মেসেঞ্জার (MESSENGER) যানটি উড়ে যায় বুধ গ্রহের পাশ দিয়ে।একে বলে ফ্লাইবাই।বুধ গ্রহের জন্য তথ্য সংগ্রহের জন্য যানটিকে পাঠানো হয়েছিল ২০০৪ সালে।গ্রহটির কক্ষপথে প্রদক্ষিণ শুরু করার আগে এটি পৃথিবীকে একবার,শুক্রকে দুবার ও বুধকে তিনবার ফ্লাইবাই করে।।এসময় যানটি গ্রহের উত্তর অঞ্চলে অনেকগুলা ক্রাটার আবিষ্কার করে। এইগুলো ধুমকেতুর আঘাতে হয়েছে।
mercury
আবিষ্কৃত ক্রাটারের ভিতর অন্যতম বড় একটা ক্রাটারের নাম দেওয়া হয়েছে আবেদিন।২০০৯ সালের ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) নামটি অনুমোদন করে।ক্রাটারটি ৬৮ মাইল চওড়া। এর কেন্দ্রিয় অংশের একটি অংশ বেশ বড় হয়ে আছে। এর ভিতরের খাদটি মসৃণ, যা একে অন্যান্য। ক্রাটার হতে স্বতন্ত্র করেছে।

IAU এর নিয়মানুসারে বুধের নতুন আবিষ্কৃত প্রতিটি ক্রাটারের নাম এমন কোন লেখক গায়ক চিত্রকর বা শিল্পীর নামে হবে যিনি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বিখ্যাত ছিলেন।আর ক্রাটারের নাম করণের অন্তত তিন বছর আগে মারা গেছেন।

আমাদের জয়নুল আবেদিন ছাড়াও ইতালিয়ান লেখক ইতালোক্যালভিনো, ফরাসি চিত্রশিল্পী কাহলিল জীবরান, মার্কিন ভাষ্কর আলেকজান্ডার ক্যালডার,নিউজিল্যান্ডীয় চিত্রকর ফ্র‍্যান্সেস হজকিন সহ আরো অনেকের নামে আবিষ্কৃত ক্রাটারের নাম রাখা হয়েছে।

১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হতেই মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহ ও উপগ্রহ বিষয়ক বিভিন্ন জিনিসের সংগায়ন ও নাম করণ করছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি।

সুত্র:- NASA, Lightsinthe dark.com, Wikipedia