দ্বি-চির পরীক্ষা ও কণা তরঙের বহু রূপ:--


কটি দেওয়ালে দুইটি ছিদ্র আছে।এখন দেওয়ালে আলো ফেললে দুই ছিদ্র দিয়ে আসা আলো পর্দায় একটি আলো-ছায়ারর নকশা তৈরি করবে। এটা জানা কথা। কোথাও খুব উজ্জ্বল কোথাও খুব অন্ধকার। কোথাও এর মাঝামাঝি অবস্থা।

এখন কথা হল আলোর বদলে ইলেক্ট্রোন ব্যবহার করলে কি হবে?
পর্দার মাত্র ছিদ্র বরাবরই ইলেক্ট্রনের ধাক্কার রেশ থাকার কথা। কিন্তু না, এবারো সেই নকশা পাওয়া গেল। আরো অদ্ভুত কথা হল, এক ঝাক ইলেক্ট্রনের বদলে যদি একটি মাত্র ইলেকট্রন ব্যবহার করা হয় তারপরও সেই নকশা পাওয়া যায়।তার মানে ইলেকট্রন একই সাথে দুটা ছিদ্র দিয়ে যাচ্ছে!! ঠিক তাই। সেটা সম্ভব হয়েছে কণার তরঙ্গধর্মী আচরণের জন্য।
এর দ্বারাই জানা যায় কণারা তরঙের মত আচরণ করতে পারে।

থমাস ইয়ং ১৮০১ সালে প্রথম এই পরিক্ষাটা করেন। তবে তখন এর গুরুত্ব বুঝা যায় নাই। পরে ১৯২৪ সালে ডি ব্রগলি প্রমান করেন সব জড় পদার্থই তরঙের মত আচরণ করতে পারে।

quantum theory

হাজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি


হাজেনবার্গের এই নীতি অনুসারে কোন কণার অবস্থান ও গতিবেগ একই সাথে নিখুত করে মাপা যাবে না। এ দুটো বৈশিষ্ট্যএর একটি যত ভাল করে মাপা হবে অপরটা ততই অনিশ্চিত হবে।
সাধারণভাবে কণার অবস্থান ও বেগের কথা বলা হলেও আরো অনেক বিজড়িত রাশির জন্য এটি প্রযোজ্য। যেমন কণার শক্তি ও স্থায়িত্ব, কণার স্পিন, কোন ক্ষেত্রের শক্তি ও তার পরিবর্তন ইত্যাদি।

কোন কণার অবস্থান ও বেগ জানার জন্য একে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। আর এর জন্য এর উপর আলো ফেলতে হয়। কিন্তু যেহেতু কণার আকার খুবই ছোট তাই এর জন্য ছোট তরঙদৈর্ঘের আলো দরকার। এখন ছোট তরঙদৈর্ঘ মানেই উচ্চ কপাঙ্ক। আর উচ্চ কপাঙ্ক মানে উচ্চ শক্তি।তার মানে সুক্ষ অবস্থান জানতে হইলে বেশি আলো ফেলতে হবে। কিন্তু এই বেশি আলো এই কণাটিকে বেশি উত্তেজিত করবে। ফলে এর অবস্থান জানা গেলেও এর বেগ হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। আবার বেগের অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনতে চাইলে অবস্থানের অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে।

যেমন:- বেগের অনিশ্চয়তা কমিয়ে অর্ধেক করতে চাইলে অবস্থানের অনিশ্চয়তা হয়ে যাবে দ্বিগুণ।


মাল্টিভার্স বা বহুবিশ্ব

কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় একই বস্তু একই সাথে একাধিক স্থানে থাকতে পারে। ব্যাপারটা সত্যি তাক লাগানোর মত। উপরুন্ত কোন বস্তুকে নিশ্চিত করে বলার উপায় নাই। কোন ঘটনা ঘটবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বলা যায় মাত্র সম্ভাবনাটুকু।

তবে কোয়ান্টাম মেকানিকস এ এর একটি সহজ সমাধান আছে।এটি দিয়েছেন হিউগ এভারেট সেটা এখানে দেওয়া হল:-

ধরুন আপনি একটা কয়েন টস করলেন। আপনি তো একই সাথে হেড ও টেইল একই সাথে পাবেন না তারপরও আপনি হেড পাইলেন। তাহলে আরেক মহাবিশ্বে আপনার মত আরেকজন আসলে টেইল পাইছেন।
এভাবে প্রতি মূহুর্তে অপর এএক মহাবিশ্বেরও আরেকজন করে যাচ্ছে আপনার না-করা কাজ গুলো।কখোনো হয়ত সফল হয়েছেন আবার কখোনো হেরে যাচ্ছেন আপনার অচেন-অজানা এক প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে।


ম্যাট্রিক্স বলবিদ্যা


কোয়ান্টাম বলবিদ্যার প্রথম গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞায়নের নাম ম্যাট্রিক্স বলবিদ্যা। ভৌত বস্তুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যায় এটি এক অভিনব উপায়ের আশ্রয় নেয়। কণার ভৌত ধর্ম ব্যাখ্যা করা হয় এর সাহায্যে। ম্যাট্রিক্সএর উপাদান গুলো সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়। উল্লেখ্য গণিতের ভাষায় আয়তাকার কলাম ও সারিতে সাজানো একগুচ্ছ সংখ্যা বা প্রতিককে বলে ম্যাট্রিক্স। তত্ত্বটির আবির্ভাব হয় তিন জন বিজ্ঞানীর হাতে। তারা হলেন হাজেনবার্গ,ম্যাক্স বর্ন, ও প্যাসকেল জর্ডান। এই তত্ত্বের কিছু ধারণার উপর ভিত্তি করে ১৯২৬ সালে পাউলি হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালির বিবরণ দেন।



ধন্যবাদ আজ এই পর্যন্তই। কোয়ান্টাম তত্ত্বের বাকি অংশ পোস্ট করা হবে আগামী কোন পোস্টে।