১৭ অক্টোবর ২০১৭। হাওয়াই দ্বিপপুঞ্জে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের প্যান-স্টারস-১ টেলিস্কোপে ধরা পড়ে একটা আবছা আলো। সেটা ক্রমেই পৃথিবী হতে দূরে সরে যাচ্ছে।এই আলোর উৎসের খোজে নামের বিজ্ঞানীরা। খোজ পান এমন এক গ্রহাণুর যেটা একেবারে অপরিচিতি। ধুমকেতুও হতে পারে সেটা। বিজ্ঞানীরা সেটার আনুষ্ঠানিক নাম দেন 11/2017/U1| প্যান স্টারস টিমের বিজ্ঞানীরা এর নাম দেন ওউমুয়ামুয়া। এটি একটি হাওয়াইয়ান শব্দ হতে এসেছে যার অর্থ স্কাউট। বিজ্ঞানীরা হিসাব কষে দেখছেন যে এর জন্ম সৌরজগতের বাহিরে। বাইরের কোন নক্ষত্র জগৎ হতে বেড়াতে এসেছে৷ এর আগে কোন বাহিরের নক্ষত্রের খোজ পান নি বিজ্ঞানীরা৷

সৌরজগতে এই আগন্তুক বিজ্ঞানীদের মাঝে সাড়া ফেলেছিল। পৃথিবীর সব বড় বড় টেলিস্কোপ এর দিকে তাক করা হয়েছিল যাতে করে এর সম্পর্কে ভাল মত জানা যায়। বিজ্ঞানীদের চোখ আকাশে তুলে দিয়েছে এর আকৃতি। এর দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার ও প্রস্থ ৩০ মিটার।অনেকটা পেন্সিলের মত দেখতে। এর আগে পর্যবেক্ষণ করা গ্রহাণুর ভিতর কোনটিরই দৈর্ঘ্য প্রস্থের চেয়ে তিন গুনের বেশি বড় ছিল না। এর গায়ের রঙ দেখে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে কয়েকলাখ বছর ধরে এর গায়ে মহাজাগতিকরশ্মি এসে পড়েছে। অর্থাৎ সৌরজগতে পৌছানোর আভে বেশ লম্বা একটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে একে। আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্রহাণু নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিলো আগে থেকেই। কিছু তত্ত্বও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো এর উপর। তবে বিজ্ঞানীরা এই প্রথমই এই ধরণের গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ করলেন।বিজ্ঞানীরা যেমন ধারণা করেছিলেন এটি তার চেয়ে বেশি ঘন।আর এটি প্রথম পর্যবেক্ষণের তিন দিন আগে, অক্টোবরের ১৫ তারিখে এটি সুর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর এটি সুর্যের সবচেয়ে কাছ দিয়ে উড়ে যায়। বর্তমানে সেকেন্ডে প্রায় ৪৯ কি.মি./ সেকেন্ড গতিতে ছুটে যাচ্ছে এটি। এর গতিপথ ও বেগ দেখে ধারণা করা হচ্ছে লইরা নক্ষত্রপুঞ্জ এর ভেগা নক্ষত্রের কাছে এর জন্ম।


আগন্তুক গ্রহাণুর গঠন বা উৎপত্তি নিয়ে কিছুই জানা যায় নি৷ জানুয়ারি ২০১৮ তে এটি বৃহস্পতি গ্রহকে ফ্লাইবাই করে। জানুয়ারি ২০১৯ এ এটি শনি গ্রহকে ফ্লাইবাই করে। এটি আস্তে আস্তে সৌরজগতের বাহিরের দিকে চলে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা পরে এরকম আরো গ্রহাণু খুজে পাবেন বলে আশা করছেন৷
সুত্রঃ নাসা